বিমানের ফ্লাইট-কন্ট্রোল সফটওয়্যারে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এয়ারবাস A320 পরিবারের প্রায় ৬,০০০ বিমানকে তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যার পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপের বিমান নির্মাতা এয়ারবাস। এই অভূতপূর্ব প্রত্যাহারের ঘোষণা আগামী কয়েক দিন বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এয়ারবাস জানায়, একটি সাম্প্রতিক ঘটনার পর তদন্তে দেখা গেছে যে তীব্র সৌর বিকিরণ (solar radiation) বিমানের ফ্লাইট-কন্ট্রোল সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ত্রুটির কারণে বিমানের সামনের অংশ হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে ৩০ অক্টোবর, যখন মেক্সিকোর কানকুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়ার্কগামী জেটব্লু এয়ারলাইন্সের এক A320 বিমান হঠাৎ তীব্রভাবে নিচে নেমে যায়। ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে ফ্লোরিডার টাম্পায়, এবং এতে বেশ কিছু যাত্রী আহত হন।
এয়ারবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ELAC (Elevator and Aileron Computer) নামের যে কম্পিউটার সিস্টেমটি এই সমস্যার জন্য দায়ী, সেটির সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। বেশিরভাগ বিমানে সফটওয়্যার পরিবর্তনে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে, তবে প্রায় এক হাজার বিমানে হার্ডওয়্যারও বদলাতে হতে পারে—যা নিতে পারে কয়েক সপ্তাহ।
ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের বিমানের সার্ভিস কমাতে শুরু করেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে তাদের ৪৮০টির মধ্যে ৩৪০ বিমান প্রভাবিত। লুফথানসা, ইন্দিগো, ইজিজেটসহ আরও অনেক এয়ারলাইন অস্থায়ীভাবে বিমান গ্রাউন্ড করছে। জাপানের ANA ৬৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক (DGCA) সব A320 ফ্লাইট সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে।
কলম্বিয়ার Avianca জানিয়েছে, তাদের শতাধিক বিমান প্রভাবিত হওয়ায় আগামী ১০ দিন তারা ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন টিকেট বিক্রি স্থগিত করেছে।
এটি এয়ারবাসের ৫৫ বছরের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রিকল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বে বর্তমানে ১১,০০০-এরও বেশি A320-পরিবারের বিমান চালু রয়েছে, এবং এগুলো আন্তর্জাতিক বিমান শিল্পের মেরুদণ্ড বলা হয়।
এয়ারবাস সতর্ক করে বলেছে, জরুরি পরিবর্তনের কারণে যাত্রী ও এয়ারলাইনগুলো সাময়িক ভ্রমণ বিঘ্নের মুখে পড়বে, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের ওপর এর প্রভাব আগামী কয়েক দিনে আরও স্পষ্ট হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



