প্যারিসের ল্যুভ (Louvre) জাদুঘর থেকে রাজমুকুটের রত্ন চুরির ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ, এক সপ্তাহ আগে সংঘটিত এ চুরির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
প্যারিস প্রসিকিউটর লর বেকু জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে দুই ব্যক্তিকে। তাদের মধ্যে একজন প্যারিসের চার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকু নিশ্চিত করেছেন, তদন্তের স্বার্থে এখনো গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং চুরি যাওয়া রত্নগুলো উদ্ধার হয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম BFM TV ও Le Parisien জানিয়েছে, দুই সন্দেহভাজনই রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সেইন-সাঁ-দেনি (Seine-Saint-Denis) এলাকা থেকে আসা। তারা আগে থেকেই পুলিশের পরিচিত ছিল।
চুরির ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ পুলিশ ইউনিটটি সশস্ত্র ডাকাতি, গুরুতর চুরি ও শিল্পকর্ম সম্পর্কিত অপরাধের তদন্তে দক্ষ। বেকু সাংবাদিকদের জানান, “অতিরিক্ত তথ্য ফাঁস হলে তা তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ১০০-রও বেশি তদন্তকারী চুরি যাওয়া রত্ন উদ্ধার ও অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছেন।”
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ তদন্তকারীদের প্রশংসা করে বলেন, “তারা নিরলস পরিশ্রম করছেন এবং আমি তাদের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখি।”
গত ১৯ অক্টোবর সকালে মাত্র আট মিনিটের মধ্যে চোরেরা জাদুঘরের বহির্ভাগে একটি লিফট ব্যবহার করে ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠে জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা দুটি প্রদর্শনী কেস ভেঙে ৮ কোটি ৮০ লাখ ইউরো (প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের রত্ন নিয়ে পালিয়ে যায়।
চুরি যাওয়া আটটি মূল্যবান শিল্পকর্মের মধ্যে ছিল ১৯ শতকের রানি মারি-আমেলি ও অরতোন্সের ব্যবহৃত নীলা-খচিত ডায়াডেম, নেকলেস ও দুল, নেপোলিয়ন বোনাপার্টের দ্বিতীয় স্ত্রী মেরি-লুইজের এমেরাল্ড গয়না, এবং সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ডায়মন্ড ডায়াডেম ও বিখ্যাত করসাজ-বো ব্রোচ।



