ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি ত্যাগ।
ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুক্রবার তাঁর “ডিউক অব ইয়র্ক” উপাধি ও অন্যান্য সম্মান ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চলমান কেলেঙ্কারির মধ্যেই তিনি এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
৬৫ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু এক বিবৃতিতে জানান, “আমি আর আমার উপাধি বা প্রাপ্ত সম্মান ব্যবহার করব না। পরিবার ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি বলেন, রাজা চার্লস তৃতীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তিনি স্বীকার করেন যে তাঁর নাম ঘিরে বিতর্ক রাজপরিবারের কাজকে প্রভাবিত করছে।
এর আগে অ্যান্ড্রু ২০১৯ সালে জনজীবন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি এখনও রাজপরিবারের সদস্য থাকলেও আর “ডিউক অব ইয়র্ক” উপাধি ব্যবহার করবেন না। তাঁর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনও “ডাচেস অব ইয়র্ক” উপাধি হারাচ্ছেন।
এই ঘোষণা আসে জেফ্রি এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের অন্যতম ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফরের আত্মহত্যার খবরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ার পর। ৪১ বছর বয়সী জিউফর সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে নিজের খামারে আত্মহত্যা করেন।
জিউফরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা “নোবডিস গার্ল: এ মেমোয়ার অব সারভাইভিং অ্যাবিউজ অ্যান্ড ফাইটিং ফর জাস্টিস”-এ নতুন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। বইটিতে তিনি দাবি করেছেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, যার মধ্যে একবার তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জিউফরের অভিযোগ ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য গুরুতর বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।



