আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বিরল পৃথিবী উপাদান বা Rare Earth Elements (REEs) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মোট ১৭টি ধাতব উপাদান নিয়ে গঠিত এই গোষ্ঠী—যার মধ্যে ১৫টি ল্যানথানাইড, স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম অন্তর্ভুক্ত—তাদের অনন্য চৌম্বক, আলোকোজ্জ্বল ও ইলেক্ট্রোকেমিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে অপরিহার্য।
স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যান, বায়ু টারবাইন থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই এই উপাদানগুলোর ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষত নিওডিমিয়াম (Nd) ব্যবহৃত হয় শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহন ও বায়ু টারবাইনে অপরিহার্য। ডিসপ্রোসিয়াম (Dy) উচ্চ তাপমাত্রায় চুম্বকের স্থায়িত্ব বাড়ায়, আর ল্যানথানাম (La) গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টার ও ব্যাটারিতে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া টার্বিয়াম (Tb) ও ইট্রিয়াম
LED আলো ও চিকিৎসা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে এসব উপাদান আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে—বন উজাড়, মাটি ও পানিদূষণ এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এদের মধ্যে অন্যতম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই খনন পদ্ধতি, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও বিকল্প উপাদান উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। বিরল পৃথিবী উপাদানগুলো আজ শুধু প্রযুক্তির নয়, ভবিষ্যৎ শক্তি নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্যেরও অন্যতম নির্ধারক।
এদিকে প্রযুক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা উপাদানের রপ্তানি নিয়ম আরও কঠোর করেছে চীন। চীনের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ নিজস্ব সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে কাজ করছে।



