পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি জেলা আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে আদালতের প্রধান ফটকের সামনে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে সে একটি পুলিশ গাড়ির কাছে নিজেকে বিস্ফোরিত করে। নিহতদের মধ্যে একজন আইনজীবীও রয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার জন্য “ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী”কে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের আরেকটি উদাহরণ।” পাকিস্তান সরকার আরও দাবি করেছে, হামলাকারীরা আফগানিস্তানের ভেতর থেকে পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মুখপাত্র রণধীর জয়শওয়াল বলেছেন, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক আধিপত্যের সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে এই অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় সময় দুপুরের বিস্ফোরণে আদালত কমপ্লেক্সে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই হাজার মানুষ তখন ভবনের ভেতরে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর কাঁচ ভেঙে যায়, ধোঁয়া ও আগুনে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আইনজীবী ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করতে ছুটে আসেন।
বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে বলেন, “দেশটি এখন কার্যত যুদ্ধাবস্থায় আছে। এটি একটি সতর্কবার্তা, যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।”
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী হামলা ও পাল্টা হামলায় দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত মাসে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে তালেবানও পাল্টা আক্রমণ করে।
ইসলামাবাদের এই হামলা এমন সময়ে ঘটল যখন এর আগের দিন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। ফলে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



